ডলারের বিপরীতে দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিনিময় হারে পৌঁছেছে রুবল। মূলত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় প্রশমন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট সমাধানে আশাবাদের কারণে রুশ মুদ্রাটি শক্তিশালী হয়েছে। খবর আরটি।
গত বৃহস্পতিবার ১ ডলারের বিনিময়ে ৭৮ দশমিক ৯ রুবল পাওয়া যাচ্ছিল, যা ২০২৩ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান। এছাড়া মার্চের শুরু থেকে রুবলের বিনিময় হার বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ।
কয়েক মাস ধরে শক্তিশালী হচ্ছে রুবল। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরু থেকে উদীয়মান বাজারগুলোর মুদ্রার মধ্যে সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন আলফা ক্যাপিটালের ইকুইটি বিশ্লেষক আলিনা পপ্টসোভা।
সিফরা ব্রোকারের প্রধান বিশ্লেষক নাটালিয়া পিরিয়েভার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ও ইউক্রেনের সঙ্গে রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপ শুরু হওয়ায় বাজার প্রভাবিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রুবলের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। যেমন রফতানিকারক ও আমদারিকারকদের কাছে রুবলের চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া বিদেশী কোম্পানিগুলোর রুশ বাজারে ফিরে আসা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রত্যাশা বাজার সংশ্লিষ্টদের।
ভেলেস ক্যাপিটালের ব্যাংকিং ও মানি মার্কেট গবেষণাপ্রধান ইউরি ক্রাভচেঙ্কোর মতে, শুধু কূটনৈতিক অগ্রগতির কারণে বিনিয়োগকারীরা সম্ভাবনা দেখছেন এমন নয়। বরং অবকাঠামোসংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশী পুঁজি ফিরে আসা এবং বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বৃদ্ধিকে তারা মূল্যায়ন করছেন। সব মিলিয়ে রুবলের প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে।
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় রুবলের প্রধান ভিত্তি ছিল অনুকূল ভূরাজনৈতিক প্রত্যাশা।’
কিছু বিশেষজ্ঞ রুবলের বিনিময় হার আরো শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন। তারা বলছেন, ভূরাজনৈতিক আলোচনার গতি অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে ১ ডলারের বিপরীতে ৭৫ রুবল পাওয়া যেতে পারে। অবশ্য বাস্তব কোনো অগ্রগতি না হলে এ ঊর্ধ্বগতি ক্ষণস্থায়ী হতে পারে।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য ঘোষিত সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞাগুলো রুশ মুদ্রার ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।